![]() |
| ছবি :- পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পাঠ্যপুস্তক |
লেখক-:মতি নন্দী
লেখকের পরিচিত :- মতি নন্দী (১০ জুলাই ১৯৩১ - ৩ জানুয়ারি ২০১০) ছিলেন ভারতের কলকাতার একজন বাঙালি লেখক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মতি নন্দী ছিলেন মূলত ক্রীড়া সাংবাদিক এবং উপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক। তিনি আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। তার বিখ্যাত উপন্যাস 'কোনি'। লেখকের সম্বন্ধে আরো পড়ুন
ওরা তখন খেতে বসেছে ।
হঠাৎ দরজায় ক্ষিতীশকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ।
“ তােমাকে দরকার , একটু বাইরে এসাে । ”
কোনিকে লক্ষ্য করে , কথাগুলাে বলে , সে দরজা থেকে সরে গেল । ওইটুকু সময়ের মধ্যেই সে দেখে নিয়েছে কয়েকটা কাঁচা লঙ্কা , কাঁচা পেঁয়াজ , ফ্যান এবং সম্ভবত তার মধ্যে কিছু ভাত আছে আর তেঁতুল । পাঁচটি প্রাণী কলাই আর অ্যালুমিনিয়ামের থালা নিয়ে বসে । ঘরে একটা তক্তপােশ । তােশক নেই , শুধু চিটচিটে ছােটো কয়েকটা বালিশ । দেয়ালে টাঙানাে দড়িতে কিছু ময়লা জামা - প্যান্ট । খােলার চালের এই ঘরে একটি মাত্র জানালা , যার নীচেই থকথকে পাঁকে ভরা নর্দমা
কোনি কৌতূহলী চোখে বেরিয়ে এল ।
“এই ফর্মটায় সই করে দাও , আর আজ বিকেলে আমার সঙ্গে জুপিটার ক্লাবে যাবে । ”
ফর্মটা হাতে নিয়ে কোনি যেন কেমন এক ফাঁপরে পড়ল । “ কলম আছে আপনার কাছে ? ”
ক্ষিতীশের কাছে নেই ।
“ পেন্সিলে লিখলে হবে ? ”
“ না , কালিতে সই করতে হবে । ”
কোনি ছুটে গিয়ে কোথা থেকে কলম জোগাড় করে আনল । ক্ষিতীশের দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় কলম বাগিয়ে সে জানতে চাইল , “ ইংরাজিতে না বাংলায় ? ”
“ যা খুশি । ”
ধরে ধরে , বিড়বিড়িয়ে বানান করে কোনি ইংরেজিতেই সই করল । সেটা দেখে ক্ষিতীশ বলল, “ কোন ক্লাশে পড়াে ? ”
“ ফাইভে ”
“ স্কুলে যাও ? ”
“ নাম কেটে দিয়েছে । ”
“ আজ ঠিক চারটের সময় কমলদিঘির পশ্চিম দিকের বড়ােগেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকবে । তােয়ালে , কস্টুম সব নিয়ে যাবে । ”
“ তােয়ালে নেই । ”
আমি নিয়ে যাব । তুমি ঠিক সময়ে আসবে । ”
ঠিক সময়েই কোনি হাজির ছিল । ক্ষিতীশ ওকে নিয়ে ক্লাবে ঢুকল । অফিস ঘরে হরিচরণ আর প্রফুল্ল বসাক । ক্ষিতীশ ফর্মটা প্রফুল্পের হাতে দিল । সেটা পড়ে প্রফুল্ল বলল , “ সুইমার ? ”
“ হ্যাঁ ”
“ ট্রায়াল দিতে হবে । ”
“ তার মানে । ” ক্ষিতীশ বিরক্ত হয়েই বলল , “ আমি বলছি তাতে হবে না ? ”
“ তা কী করে হয় ! ক্লাবের একটা নিয়ম আছে তাে। ট্রেনার যদি বলে তবেই সুইমার । যে - সে , যাকে - তাকে এনে সুইমার বলবে আর জলে নেবে যদি ডুবে যায় তখন আমরাই তাে হাঙ্গামায় পড়ব । ”
প্রফুল্ল কথাগুলাে বলতে বলতে হরিচরণের দিকে তাকাল । জানালার বাইরে তাকিয়ে হরিচরণ তখন মুচকি হাসছে ।
“ যে সে । আমি তাহলে যে সে ? ” ক্ষিতীশ বিড়বিড় করল থমথমে স্বরে । কোনি অবাক হয়ে দেখছে , দলে দলে ছেলেরা কস্টুম পরে ক্লাব থেকে বেরােচ্ছে । তিন - চারটে মেয়েও আছে তার মধ্যে । বাইরে হই চই জলের ধারে ‘ নভিস ' ছেলেদের ।
“ বেশ তাহলে ট্রায়াল নেওয়া হােক । ”
হরিচরণ মুখ ফেরাল এতক্ষণে । কোনিকে আপাদমস্তক দেখে বলল , " মেয়েটি কে ? ”
“ আমার চেনা মেয়ে । গুড মেটিরিয়াল । স্ট্রোক শেখাতে হবে । ”
“ গুড মেটরিয়াল । ” হরিচরণ ঠোট বেঁকিয়ে শব্দগুলাে দুমড়ে মুখ থেকে বার করল । কোনিকে আর একবার দেখে নিয়ে , গম্ভীর স্বরে বলল , “ এ ক্লাবের কাউকে স্ট্রোক শেখাতে হলে , শেখাবে ক্লাবেরই ট্রেনাররা । কাল সকালে আসুক । বন্দনা কি টুনু ওর ট্রায়াল নেবে । ”
ক্ষিতীশ কয়েক সেকেন্ড হরিচরণ ও প্রফুল্লর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল , “ আচ্ছা । ”
বেরিয়ে এসে কোনি বলল , “ কী হলাে , ' ভর্তি করল না ? ”
“ পরীক্ষা দিতে হবে । কোনি , আমাদের দুজনকেই পরীক্ষা দিতে হবে ।
কথাটা বুঝতে পারল না কোনি । সে আবার জিজ্ঞাসা করল , দুজনকেই । কেন , আপনি সাঁতার জানেন না ? ”
“ সাঁতার নয় , আমাকে পরীক্ষা নিতে হবে অপমান সহ্য করার । ”
ক্ষিতীশ জলের ধারের রেলিংয়ের দিকে এগিয়ে গেল । দুটি ক্লাবের প্রায় চারশাে ছেলে কমলদিঘিতে দাপাদাপি করছে , কয়েকটি মেয়েও আছে । দুটো ডাইভিং বাের্ডে কয়েকটি ছেলে । তারা জলে লাফাচ্ছে নিছকই লাফাবার জন্য । বিষন্নচিত্তে ক্ষিতীশ মাথা নাড়ল । কাজের কাজ কেউই করছে না । সুহাস জলে নামছে । একবার সে তাকাল মাত্র তার দিকে ।
হরিচরণ ক্লাব অফিসের জানালা থেকে চেঁচিয়ে বলল , “ সুহাস , দুটো ফোর হানড্রেড , তারপর হানড্রেড বাটারফ্লাই , ব্যাক অ্যান্ড ব্রেস্টস্ট্রোক ইচ , মনে আছে তো ? ”
সুহাস ঘাড় নাড়ল ।
ক্ষিতীশ হাসল । মাত্র এগারােশাে মিটার , এই ট্রেনিংয়ে এরা উন্নতি করবে । তবে সুহাসের স্ট্রোক নিখুত । ক্ষিতীশ বলল , “ কোনি , ওই যে ছেলেটা জলে নামল ওকে লক্ষ করাে দোখা কেমনভাবে হাত পাড়ি দেয় । ”
কোনি একাগ্র হয়ে তাকিয়ে রইল সুহাসের সাঁতারের দিকে । ক্ষিতীশ এক সময় বলে উঠল , " হাতটা মাথার ঠিক সামনে জলে ঢুকে সামনে চলে যাচ্ছে , তারপর নীচে নামছে , তারপর টেনে উরু পর্যন্ত আনছে । সব থেকে দরকার স্পিড়ে হাত চালানাে । তার মানে এলােপাথাড়ি গঙ্গায় যেভাবে করাে তা নয় । সুন্দরভাবে জলে হাতের ঢােকাটা আর শক্ত কবজি খুব দরকার । আসল স্পিড়টা আসে কঁধের , পিঠের আর হাতের মাসলের শক্তি থেকে । এজন্য তােমার একসারসাইজ করতে হবে। এই শক্তিটাকে গুছিয়ে কাজ করালে তবেই স্পিডটা আসবে । মাথাটা কীভাবে রয়েছে দেখেছ ? তুমি যেমন এধার ওধার নাড়াও , সেই রকম করছে কি ? মুখ জলে ডুবিয়ে কেমন এগােচ্ছে । শুধু নিশ্বাস নেবার জন্য মাথাটা , ওই দ্যাখাে পাশে ঘোরাল । বেশি মাথা নাড়ালে স্পিড কমে যায় । কাঁধটা জল থেকে উঠে আছে । "
লেনি শুনছে কি শুনছে না বােঝা গেল না । সাঁতারুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ সে বলল , “ আচ্ছা ওই মেয়েটার নাম কী ? ”
ক্ষিতীশ একটু হতাশ হয়েই বলল , “ জানি না । ”
“ ওর কস্টুমটা কীসের , গেঞ্জির ? ”
“ নাইলনের – খুব দামি । ”
“ খুব সুন্দর রংটা । ”
ক্ষিতীশ কী যেন ভেবে নিয়ে বলল , “ তােমাকে কিনে দেবাে একটা – ”
কোনি ঘুরে দাঁড়াল । চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে ।
“ যেদিন তুমি ওই রকম স্ট্রোক দিতে শিখবে । ” ক্ষিতীশ আঙুল দিয়ে সাঁতরে যাওয়া সুহাসকে দেখাল ।
কোনি তীক্ষ্ণ চোখে সুহাসের দিকে তাকিয়ে ঠোট বেকিয়ে বলল , “ দু'দিনে শিখে নেব । ”
“ ভালাে । কাল সকাল ঠিক সাড়ে ছটায় আজ যেখানে দাঁড়িয়েছিলে , সেখানে দাঁড়াবে । কস্টুম সঙ্গে আনবে । পাশ তুমি করে যাবেই সেজন্য ভাবছি না । কিন্তু স্ট্রোক শেখানাের ভার পান্না কি নির্মলের উপর যদি পড়ে তাহলে তাে সব মাটি হয়ে যাবে । ”
কিন্তু কোনি পাশ করেও ভর্তি হতে পারল না ।
সকালে ক্ষিতীশ দাঁড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া দেখল । কোনি অনায়াসে দু'শাে মিটার সাঁতরাল , জলে দু - হাতে তুলে রইল , ঝাপ দিল ডাইভিং বাের্ডের নীচতলা থেকে ।
বিকেলে অফিস ঘরে প্রফুল্ল তাকে বলল , “ সম্ভব নয় , আর মেম্বার নেওয়া যাবে না , সেক্রেটারির স্ট্রিক্ট অর্ডার । জলে আর হাত - পা ছোঁড়ারও জায়গা নেই , এত ভিড় । আজকেই তাে দুজনকে রিফিউজ করতে হলাে । ”
“ তাহলে আগেই সেটা আমাকে বলা হলাে না কেন ? ” ক্ষিতীশ রাগে ফেটে পড়তে গিয়েও সামলে নিল ।
“ বলার কথাটা মনে ছিল না । ”
বন্দুকের নল থেকে বেরিয়ে আসার মতাে ক্ষিতীশ ক্লাব থেকে বেরিয়েই দেখল স্টার্টিং প্ল্যাটফর্মে হরিচরণ দাঁড়িয়ে । কথা বলছে দুটি ছেলের সঙ্গে ।
“ হরিচরণ ” ক্ষিতীশ চিৎকার করে উঠল , “ চিফ ট্রেনার হতে চেয়েছিলিস , হয়েছিস । এরপরও এসব কী হচ্ছে ? ”
হরিচরণ বিরক্তিভরে ফিরে তাকিয়ে বলল “ কী আবার হচ্ছে ? ”
“ আমার মেয়েটাকে ভর্তি করলি না কেন ? ”
“ প্রফুল্লর কাছে যাও । ”
“ ওসব ছেঁদো ওজর অনেক শােনা আছে । তবে এই বলে রাখলুম , দেখবি ওই মেয়ে তােদের মুখে চুনকালি দেবে । সেদিন আপােশ করবি ।
“ ওই মেয়ে , যাকে কাল এনেছিলে ! ভালাে , ভালাে , তাই দিক । একটা মেয়ে সুইমার বেঙ্গল পাচ্ছে তাহলে । ”
“ বেঙ্গাল নয় , ইন্ডিয়া পাবে । ” রেলিংয়ে ধরা মুঠোটা শক্ত করে নিজেকে ঝাকাতে ঝাকাতে ক্ষিতীশ ভাঙা গলায় চেঁচিয়ে যেতে লাগল , “ওলিম্পিকের গুল মেরে সুইমার তৈরি করা যায় না রে , ধরা একদিন পড়বিই । ”
প্রফুল্ল ক্লাব থেকে বেরিয়ে এল ।
“ কী আবােলতাবােল চিৎকার করছ ক্ষিদ্দা । ”
“ বেশ করছি । কর্পোরেশনের জমিতে আমি দাঁড়িয়ে । তােদের ইতরোমােটা শুধু দেখছি । মেয়েটাকে তােরা ভর্তি করলি না , ভেবেছিস আর বুঝি ক্লাব নেই । পৃথিবীতে শুধু জুপিটারই একমাত্র ক্লাব । ”
“ তা হলে যাও না অন্য ক্লাবে । ” হরিচরণ চেঁচিয়ে উঠল । “ ওই তাে পাশেই একটা ক্লাব রয়েছে । ”
“ তাই যাব , তাই যাব । ”
ক্ষিতীশ হনহন করে এগিয়ে গেল অ্যাপােলাের দিকে । পিছনে জমে যাওয়া ভিড়টাকে উদ্দেশ্য করে প্রফুল্ল বলল , “ পাগল মশাই , পাগল । ”
আপােলাের গেটে পৌঁছে সংবিৎ ফিরল ক্ষিতীশের। দাঁড়িয়ে পড়ে নিজের প্রতি অবাক হয়ে ভাবল , এখানে আমি এলাম কেন ? এরা তাে জুপিটারের শত্রু । আমি কি নেমকহারাম হলাম !
ক্ষিতীশকে দেখতে পেল অ্যাপােলাের অন্যতম ভাইস - প্রেসিডেন্ট নকুল মুখুজ্জে । সিড়ি দিয়ে নেমে গেটের কাছে এসে বলল , “ কী ব্যাপার , ক্ষিতীশ যে ! তুই এখানে ? ”
হঠাৎ ক্ষিতীশের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল “ তােমাদের এখানে জায়গা হবে নকুলদা । জুপিটার আমায় তাড়িয়ে দিয়েছে । ”
“ যাঃ কি আজেবাজে বকছিস । তােকে তাড়াবে কে ? ”
“ সত্যি বলছি নকুলদা , তাড়িয়ে দিয়েছে । আমায় টাকা পয়সা দিতে হবে না । একটা মেয়ে পেয়েছি , তাকে শেখাবার সুযােগটুকু দিও তা হলেই হবে । ”
“ ভেতরে আয় , আগে সব শুনি । ”
তার আগে বলে রাখি , আমি কিন্তু জুপিটারের লােক , অ্যাপােলাে কোনােদিনই আমার ক্লাব হবে না । ”
“ তাহলে তােকে আমি নেব কেন ? ”
“ আমাকে নয় , মেয়েটাকে নাও । আমি ওকে শেখাব । ও যদি সম্মান আনে তাহলে সেটা হবে অ্যাপােলােরি । ”
“ আচ্ছা আচ্ছা , ভেতরে চল । ”
“ আগে বলে , আমার শর্তে রাজি । অ্যাপােলাের তুমিই সব , তোমার কথায় ক্লাব ওঠে বসে । তুমি কথা দিলে তবেই ঢুকব । ”
নকুল মুখুজ্জে কিছুক্ষণ স্থির চোখে ক্ষিতীশের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল , “ তাের জুপিটার থেকে বেরিয়ে আসা মানে আমাদের শত্রুর দুর্গের একটা খিলেন ভেঙে পাড়া । অ্যাপােলাের ছাদের নীচে তুই আসিস , সেটাই আমাদের ভিকট্রি হবে । আচ্ছা কথা দিলাম । ”
গেট অতিক্রম করার আগে ক্ষিতীশ একবার পিছন ফিরল । কমলদিঘির জলে ছায়া পড়েছে পশ্চিমের দেবদারু আর রাধাচুড়া গাছের । জুপিটারের বিরাট ঘড়িটার কালাে ডায়ালে কাটা দুটো আবছা লাগল ক্ষিতীশের পুরু লেন্সে । বুকের মধ্যে প্রচণ্ড একটা মোচড় সে অনুভব করল । চিকচিক করে উঠল চোখ দুটো ।
সেই রাতে ঘুম এল না ক্ষিতীশের । বারান্দার দেয়ালে হেলান দিয়ে বাসে রাতটা কাটাল । বারবার একটা কথাই তার মনে পাক দিয়ে ফিরল: “ আমি কি ঠিক কাজ করলাম ? অ্যাপােলােয় যাওয়া কি উচিত হলাে ? ”
ভেলাে উত্তেজিত হয়ে হাজির হলাে সকালেই ।
“ ক্ষিদ্দা , তুমি আপােলােয় জয়েন করেছ ? বেশ করেছ । তোমাকে তাে সেই কবে বলেছিলুম , এটা হলাে যুদ্ধ । ন্যায় - অন্যায় বলে যুদ্ধে কিছু নেই , শত্রু - মিত্র বাছ - বিচার করে কোনাে লাভ নেই । ”
ক্ষিতীশ চুপ করে রইল ।
“ জুপিটারকে এবার শায়েস্তা করা দরকার । বুঝলে ক্ষিন্দা , তুমি শুধু ওই নাড়ির সম্পর্ক - টম্পর্কগুলাে একটু ভুলে যাও... ”
“ ভেলো ”
ক্ষিতীশের একটা হাত তােলা । চোয়াল শক্ত । পুরু লেন্সে ভেঙে চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আসবে । ভেলাে এক পা পিছিয়ে গেল ।
“ আর একটা কথা যদি বলেছিস তাে – ”
ভেলাে বিড়বিড় করে বলল , আমার ভুল হয়ে গেছে । “ আমায় মাপ করাে ক্ষিদ্দা । ”
কোনি সপ্তম পর্ব
